Archive | সুন্দরের সমীপে

অশাব্দিক

ব্যর্থ আমি। বর্ণগুলো আর পারছি না ধরতে, হাঁটু ভেঙে গড়িয়ে পড়ছে সর্বশেষ পঙক্তি। ছন্দের পিছে ছুটছি অকারণ, যেন আমি গাধা, ও মুলো। ক্লান্ত আমি। পা দুটো ভারী হতে হতে, আচমকা বনে গেছি পক্ষাঘাত মূর্তি। আমাকে মুক্তি দাও কথা, আমি ছুটে চলি অগস্ত্য শব্দহীন পথে। অসুস্থ আমি। মৌনতাই ওষধি, নিস্তব্ধতার দানাগুলো আমি গিলে ফেলি গোগ্রাসে। তবুও […]

শব্দ

কোথা থেকে যেন একটা মৃদু বিষণ্ণ  শব্দ প্রায়শই ভেসে আসে শিশিরের আড়মোড়, হেমন্তের মর্মর কিংবা স্রোতস্বিনীর কলকল ছাপিয়ে। কোথায় যেন একটা সূক্ষ্ম শোকার্ত শব্দ প্রায়শই শুনতে পাই নাগরিক কোলাহল, বৈষয়িক ঠুংঠাং কিংবা সাংঘর্ষিক দামামা কাঁপিয়ে। শব্দের সুতো ধরে এগিয়ে যে যাব তারও কোন জো নেই। জন্মের হৈচৈ! সবাই একটু চুপ কর! একটু দাঁড়াও! কোত্থেকে শব্দটা ভেসে […]

সন্ধ্যার কবিতা

নগরের কোনো এক টলটলে দীঘি, আর তার পাশে বসে আছি আমি। জল কাঁপছে মৃদু মৃদু, আর আমি বসে শুনছি সন্ধ্যার রাগিণী। তুমি গান গাও আমি শুনি দিগন্তের আলো কিভাবে ম্লান হয়, রাত্রি নেমে আসে পৃথিবীর উর্বর বুকে। আমি আলেয়াকে দেখি আর গান শুনি, হাত রাখি সন্ধ্যার স্নিগ্ধ চিবুকে।

সুপ্রভাত

আমিও দেখেছি সকাল কি করে হয়। রাত্রির নিস্তব্ধতার বেলুনে পাখির মুখর ঠোঁট কি করে সুঁই ফুটিয়ে দেয়। ঘুম পাড়ানি মাসি পিসির মতো ঘুম ভাঙানো মেসোমশাই কাশেন। হুট করে সূর্য ওঠে না। ঠিক যেমন হুট করে ফোটে না মুখিয়ে থাকা ফুল। আলোর বেগ নিয়ে আমার স্বভাবতই সন্দেহ জাগে। আলোকরশ্মি তার আলস্য নিয়ে পাহাড় ডিঙিয়ে অনেক কষ্ট […]

ঘুম ভাঙার শব্দ

অদ্ভুত এক যন্ত্রণা নিয়ে ঘুম ভাঙল। কোথাও জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে কপাল! জানলায় দেখি পুবের পাহাড় দিব্যি দাঁড়িয়ে। বুকের ‘পরে লেপ্টে আছে সকাল। আধো তন্দ্রায় ঢোঁক গিলি। ঠাণ্ডা জল গলায় গড়িয়ে; আমি নিজেও আবার গড়াই। ঘুম যেন পালিয়ে না যায়, তাই আলোর চে’ বেশি বেগে ভোরের ভুল সরাই! চার্চে ঘণ্টা বাজে। পৃথিবীর আমলনামায় আরও একটা রাত […]

লালাবাই

ঘুমকাতুরে আমি ঘুমাতে চাই তোমার দুচোখে। তোমার দুচোখ আজ চষে বেড়াবো আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে। তুমি চোখ পেতে বস আমি তলিয়ে যাই ঘুমে। নিভুনিভু তারা নিভে যাওয়ার আগে আমি ঘুমাতে চাই তোমার দুচোখে। বিষণœ দিনের পর সুনসান রাতে তুমি জেগে আছো বলে আমি ঘুমাতে চাই তোমার দুচোখে। তোমার দুচোখের তারায় আমায় পুরে ফেল তুমি ডাগর ঐ সাগরে […]

আদম চরিত

আমি তোমাকে দিয়েছি বারুদের মতো জমানো দুঃখ, ঐন্দ্রজালিক মেটাফোর, মসনদী কাব্য, স্ফীত প্রাণ। আজকাল আরক্ত তুমি আরাধ্য আলোয় হও বিদগ্ধ, অতলান্তিক ঘড়ার মতো উগ্রে দাও বাসমতী ঘ্রাণ। সুকান্তের কবিতার মতো গিলে ফেল প্রকাণ্ড চাঁদ ক্ষুধার তাড়নে তথাপি মোহিত আমি মোহিনী তোমায় জপি অপার্থিব কারণে। তুমি আমাকে দিয়েছ পারদের মতো নরম মৃত্যু, পানির ফোঁটার মতো ক্ষুদ্র […]

মখমলের ডানা

শুধু গায়ে মেখেই কাটিয়ে দিতে পারি অনন্তকাল চাঁদের আলো, ঠাণ্ডা রোদ কিংবা তোমার প্রশ্নবোধক চোখ। শুধু পায়ে হেঁটেই পাড়ি দিতে পারি সুদীর্ঘ পথ আলোকবর্ষ, আমাজন কিংবা তোমার আপাদমস্তক। শুধু স্নান করেই সজীব হতে পারি সহস্রদিন নিরন্তর নদী, অনুশোচনা কিংবা তোমার দীঘির মতো জল। শুধু গান করেই মেটাতে পারি ক্ষুধা তৃষ্ণা, অভিপ্রায় কিংবা তোমার নিবিড় কৌতূহল। […]

অবসাদের কাব্য

অনেক কথাই ভাবছিলাম আজ অসময়ে, খসে পড়া তারার মতন আতশবাজি সাঙ্গ করে ঝিমুচ্ছিলাম ঝিনুক জলে। জোনাকিরা হারিয়ে গেল আলোর ভয়ে, ভাল্লাগেনা লুকোচুরি-চড়–ইভাতি কিংবা একা থাকতে বসে কৌতূহলে! তোর ছবিটা উঠলো ভেসে সূর্যোদয়ে, মুছতে গেলে লাগতো পুরো কালবোশেখি তাই না মুছে ছড়িয়ে দিলাম পূর্বাচলে!

হেঁটে চলার কাব্য

হাঁটতে আমার ভালো লাগে। তোমার বাঁকানো পথ আর হেলানো তলে হাঁটতে আমার ভালো লাগে। ঝড়ো বাতাস হয়তো টানে; ঠাণ্ডা হাওয়ায় হয়তো কাঁপি, হয়তো আমার নড়বড়ে পা; পিঠের পরে মস্ত ঝাঁপি। পথের ধারে নির্বিচারে মরা মেদুর গন্ধ লাগে, তবুও আমি বলছি না যে হাঁটতে আমার মন্দ লাগে। হাঁটতে আমার ভালো লাগে। তোমার পাহাড়ি ঢল আর বাহারি […]

তোমাকে দেখব বলে আমি বসে নেই

তোমাকে দেখব বলে আমি বসে নেই যদিও প্রেমের কবিতা লিখতে আমি সময় নেই তবুতো অবশেষে আমি তোমাকে দাঁড় করাই আমার কবিতায়। তোমার রঙের উপর রং, নব অবকাঠামো দেই। কলম বদলাই, দিস্তা দিস্তা কাগজ ছিঁড়ি। তবু বলি তোমাকে দেখব বলে আমি বসে নেই। তোমার নাম নেই না আমি, তোমায় দামও দেই না আমি। ভাবি না তোমার […]

কোন এক ফাল্গুনে

বহুক্ষণ দম বন্ধ করে বসে থাকলে; মরে যাবার কথা। বহুদিন অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকলে; ঠাস করে পড়ে যাবার কথা। জানি না সেই কবে থেকে আমি দম না নিয়ে বাঁচি, কই আমি তো মরি নি। সেই কবে থেকে দুদণ্ড তোমায় দেখব বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি, কখনো সরিনি। বাতাস যেন বিনে পয়সায় পাই না, বাতাস কিনতে আমার কোথাও […]

সুন্দরের সমীপে

সুন্দরের আলোয় অন্ধ হয়ে যাওয়া সন্ধ্যা আজ, কালবোশেখির মতো বিধ্বংসী সুন্দরে উড়ে যাচ্ছে বন। তোমার সুগভীর চোখ স্থবির দীঘির মতো কালো, কৃষ্ণবস্তুর মতো সোৎসাহে গিলে ফেলে যত অস্থির বিকিরণ। সুন্দরের আতিশয্যে আজ ভুগছে আপামর, বয়ে যাচ্ছে সময়, ক্ষয়ে যাচ্ছে গোধূলি। তোমার চোখের তারা তৃষ্ণাবিনাশী সরোবর, সান্দ্র জলে ছুঁড়ে মারি যত ইচ্ছেপূরণ আধুলি। সুন্দরের প্রকট আলোয় […]