Archive | সুন্দরের সমীপে

সুন্দর

সুন্দরকে যেন সবসময় সুন্দর দেখায় এই চিন্তাটা সবসময় থাকে সুন্দরের মনে! ঐ দেখ কাত হয়ে যে মেয়েটা ঘুমুচ্ছে; ক্ষণিকের মৃত্যুতেও ও ওর সৌন্দর্যের সাথে কোন আপোস করেনি। খবরের কাগজ পড়ছে আমার পার্শ্ববর্তী যে বুড়ো মহিলা, এ বয়সেও তাঁর কী অপরূপ ভঙ্গিমা! দিনের বেলায় যে শহরটাকে দেখি সবচে ব্যস্ত, দিনের শেষে ঐ শহরটাই কিন্তু সবচে জমকালো। […]

মোমের বউ

মোমের বউকে আদর করো না; গলে যাবে, মোমের বউকে আঘাত করো না; চলে যাবে। মোমের বউ এর ডানে গেলে; ধুন্ধুমার, বামে গেলে; ভেঙে করে সব চুরমার। মোমের বউ এর মোমের মতোই; নরম মন, এতই নরম; গরম থাকে সর্বক্ষণ। মোমের বউ এর মেজাজ মর্জি; বোঝা ভার, বিয়ে করেও ভাববে তুমি; বউটা কার? মোমের বউ এর ছলাকলার; […]

পাঁচ আঙুলের আত্মকথা

আমরা পিঁপড়ের মতো সারাদিন ছুটোছুটি করি, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খেটেখুটে মরি। আজীবন লেগে থাকি লোকেদের লোমশ দু’হাতে, সারাদিন কেটে যায় অন্যের ইপ্সা মেটাতে। অন্ধকার ভোরে; স্নুজে মাথা রেখে দিন করি শুরু, অতঃপর গন্ধগোকুল ঘরে- আমাদের নিয়ে যান গুরু। টুথপেস্ট টিপে বের করি, সাদা সাবানের নেই ঘ্রাণ, মনিবের মুক্তির পরে- মুক্ত জলে করি স্নান। তার […]

মন ভালো নেই মা

মন ভালো নেই মা, তুমি ছিলে ‘মা-পাখি’ টা; আমি ছিলেম ‘ছা’, সেই ছিল বেশ ভালো। মন ভালো নেই মা, তোমায় রেখে কোন কুক্ষণে যে ছেড়েছিলেম গাঁ, তার পর থেকে সব কালো। মন ভালো নেই মা, চাইলে এখন উড়তে পারি; পাহাড় গিরি ঘুরতে পারি, কিন্তু তোমায় দেখতে গেলেইসামনে এসে দাঁড়ায় সমুদ্র। মন ভালো নেই মা, অচিনদেশে […]

মাকে নিয়ে লেখা

মাগো! তোমায় ছেড়ে অচিনপুরে থাকতে আমায় হয়, পাথর চেপে পার করি সব অসহ্য সময়। মাগো! কারো কণ্ঠে পেলাম নাতো তোমার মতো সুর, ঝুমবৃষ্টি আসলে পরে তুমি ছিলে আমার অন্তঃপুর। মাগো! আমার দেখা তুমিই সবচে’ হাস্যময়ী নারী, তোমার ছেলে বলেই বুঝি কান্না গিলতে পারি। মাগো! আমার দম ফুরোলে চাবি দিতে তোমার কাছেই আসি, তুমি আমার তীর্থ, […]

ব্যক্তিগত বৈশাখ

[বহুদিন আগে…] বাবার সাথে এক মেলায় গিয়েছিলাম, স্কুল অব্দিও যাইনি তখনো। বাবার সেই হাড়গিলা বাইকটার সামনে বসে, লোহার রডটা ছাড়তামনা কখনো। সেই মেলার স্টলগুলো ছিল ছাপরার, মাটিতে কাপড় বিছিয়ে সাজানো টংটং গাড়ি। তালপাতার সেপাই, কাঠের ট্রাক, মাটির পুতুল কিংবা এক টাকার লটারি। নাগরদোলায় চেপে সে সময় দুলতো স্বপ্ন, সার্কাসের বাঘ পোষ মানত ছোট্ট হৃদয়ে। মাকে […]

নিশ্চিন্তপুর

দেশের পোশাক বিদেশে পেয়ে- আমার দন্ত বিকশিত হয়, শাসকশ্রেণীর কোষাগারে কার্ড ঘষে- আমার সেকি দায়মুক্তির হাসি! কিন্তু এসবের যারা আসল কারিগর- ওদের হাঁড়ি ঠেলা থামেনা কোনোদিন, মেয়েগুলোর ঠিক ‘বাংলা পাঁচ’ এর মতো মুখ- ওদের কথা আমি কখনো ভাবিনি। দেশমাতা আমাকে ‘সিঁড়ি বানানো’ শিখিয়েছিল- নিজ খরচায়, আমি নিজেই নিজের সিঁড়িটা বানিয়ে পালিয়ে বেঁচেছি- চুলোয় যাক ওরা! […]

দেশের খবর

ইদানীং- খবরের কাগজে চোখ বুলোলেই পিলে চমকায়, হাসি কান্নার মিথস্ক্রিয়ায় মুখে মাছি ভনভন করে। দু’কলম লিখে কী লাভ? চেঁচিয়েই বা কী গতি সুয়োরানী-দুয়োরানী আর তাঁদের পঙ্গপালদের দেশে? অরাজকতায় ভরছে রাজ্য, মিউজিক্যাল চেয়ারে টিপিক্যাল জারেরা সূর্যের মতোই ঘুরছে, পিলো হয়েও কিলোচ্ছে দাঁত যত আপামর! বুদ্ধিজীবীরা বুদ্ধ সাজছে! স্বয়ং বোধিবৃক্ষ হয়ে বসে থাকছে পৃথিবীর আনাচে কানাচে; যেন- […]

বাংলাদেশ

তুষারে ছেয়ে গেল কাচের কার্নিশ, বরফে ঢেকে গেল আমেরিকান লেক। ছেলেগুলো তুষারের বল বানিয়ে খেলছে। ফুটে আছে নাম না জানা ফুল। আমি জানি এমন হাজারটা ফুলও আমার দেশের একটি কদম নয়। কিংবা বনবাদারে ফুটে থাকা ফুলের সমানও নয়। গন্ধবহুল জুঁই, চামেলী, বকুল অথবা হৃদয়রাঙা পলাশ কিংবা শিমুল- ওদের রঙে ম্লান এখানকার মুন্সিয়ানা। পশ্চিমে সন্ধ্যা নামছে। […]

প্রাণ

একদিন মরে যাব আমি, যদিও মরে যাওয়ার খুব বেশি তাড়া নেই আমার। একদিন অকপটে নিঃশেষ হব, যেভাবে মিশে যায় তিসি মিশকালো জলে। একদিন রক্ত মাংস আর অস্থি মজ্জা ছেড়ে, আমার অস্তিত্ব হবে অভুক্ত শূন্যতায়! একদিন পুষ্টি আর তুষ্টির গুষ্টি কিলিয়ে, মিলিয়ে যাব কুৎসিত মৃত্যু মিলনে- বুদ্বুদ হয়ে! বিকেলের নরম রোদ মরে গেলে, যেভাবে সন্ধ্যা নামে […]

অনির্বাণ

একদিন হতচ্ছাড়া চাঁদ আলো দেওয়া বন্ধ করে দেবে, রেডিয়ামের সর্বস্ব দুইয়ে টুকটাক কাজ চালাবে নির্বোধ পৃথিবীটা। অন্ধকারের আলোতে ঝলসে যাবে নর্তকীর নান্দনিক মুখ! স্বর্গীয় সুখ বুঝাতে ব্যবহৃত হবে পিন, পতন আর নিস্তব্ধতার মতো বিচ্ছিন্ন শব্দগুলো। সেইদিনও প্রেম থাকবে… দূর্বাঘাস বিলুপ্ত হোক কিংবা বাঘের দুধের মতো বাঘেরাও না পাওয়াই রোক। পৃথিবীর মৃত্যুশয্যায়; ক্রমে খসে পড়া বুড়ো […]

পাখির চোখে ভেগাস

পাহাড়ের উপরটা পাশবিক, ক্ষতবিক্ষত কোন অজানা সংঘর্ষে বিষন্ন বালিয়াড়ি যেন থমকে দাঁড়ানো, রক্তাক্ত প্রান্তর ঈষৎ লালচে। একটা নদী বয়ে চলেছে অনেক দূর, আপাতদৃষ্টিতে দিগন্তে গিয়ে ঠেকেছে। হায়রে ভেগাস! তোর উজ্জ্বলতা হার মানায় পাহাড়ের চমকানো চিবুক। নিউ মেক্সিকো ঊষর তেপান্তরের মাঠ, তবু তোর দৈনতা সেতো আরও প্রকট। লাল এই মরুর বুকে শুধু সুতোর মতো নদী, একটাও গাছ […]

পাখির চোখে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন যতবার দেখি পাখি হতে ইচ্ছে করে আকাশে গিয়ে সুখ নেই, পাতালে গিয়ে সুখ নেই, সব সুখ ওর রঙিন অসমতল খাঁজে। নদীকে পাখির চোখে যতটা না নিরীহ মনে হয় কালের চক্রে ঐ নদীটাই সবচে ধারালো। যেমন দুরন্ত কিশোর অবিরত কেটে যায় নখ দাঁতের আঁচড়ে! উচ্চতা গভীরতা আর ব্যাপকতা বুঝাতে সংখ্যা লাগে না তোমাকে এক […]

ঝঞ্ঝানিল

অদৃশ্য তুমি অন্ধকারের মতোই প্রশস্তি দিতে, দৃশ্যমান তুমি সেতো অসহ্য যন্ত্রণা। আবারও তুমি পাখি হও; কিংবা কর্পূরের মতো উবে যাও, তবু থেক না এ তল্লাটে! এর কোনো কারণ নেই, কোনো মানেই হয় না এই নষ্ট পৃথিবীর। অতৃপ্ত আমি পালাবো কোথায়? কাছে গেলে খসে পড়ে খোলা জানালাও! কেনই বা ভণিতা দিয়ে ভয়ঙ্কর সুন্দর করেছিলে ভোর? এরপর […]

ঝিমিকি

ভেবেছিলাম কাছেপিঠেই কোথাও লুকিয়ে আছ তুমি, কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে ঝা বলে বেরিয়ে আসবে হঠাৎ! আমার পিঠে হাত রাখবে, বলবে- আমি ছিলাম, আমি আছি, আমি থাকবো। কিছুই হয়নি এসব, যেখানে তোমাকে লুকোনো ভেবেছি- সেখানে তুমি ছিলে না কখনো! ভেবেছিলাম তুমি এলে পরে কবিতাগুলো পূর্ণতা পাবে, আমার জমানো যাবতীয় লেখা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেব তোমার সর্বস্ব! তুমি […]