Archive | কবির কবিতা

আমেরিকার যত আজগুবি শহর

“এতদিন থিতু হয়ে ছিলাম অরেগনের এক বিরক্তিকর (Boring, Oregon) জায়গায় আর ভাবছিলাম আমার অন্য কোথাও চেষ্টা করা উচিত কিনা! আর দেরি না করে তাই ঝাঁপিয়ে পরলাম গাড়িতে, সবাই হয়তো প্রশ্ন করবে আল্লাহর দুনিয়ায় এত জায়গা থাকতে অ্যারিজোনাতেই বা কেন (Why, Arizona)? সবার উদ্দেশে বলবো, অজস্র কেন’র উত্তর মেলাতেই আমার এই স্থানটি বেছে নেয়া। এর কিছুদিন […]

ঝটিতি

হুট করে তুমি এসছিলে। তাইতো আমার উঠোন এখন- চাঁদের মতই চকচকে, পথ ভুলে; আবার যদি আসো! ধুত্তরি! আর আসলেনা। তবুও আমি গাছের মতই- দাঁড়িয়ে করি প্রার্থনা, যেথায় থাকো; খই এর মত- খিলখিলিয়ে হাসো।   বৃষ্টি সেদিন পড়ছিল। মিষ্টি তোমার ঐ মুখে- জড়িয়ে ছিল মিষ্টতা, মুগ্ধ হয়ে; সেই পানে- চেয়ে ছিলাম আমি! ঠাণ্ডা রোদটা পড়লোনা।  তাইতো […]

অনাস্থার স্মারক

হীরক রাজাও মহান ছিলেন- বিকিয়ে দেননি রাজ্য। বুয়েট ভিসি নজরুল তুমি- কবিতা চিবিয়ে খাচ্ছ! অন্যায় আর দুর্নীতিতে- নেইকো তোমার জবাব। রাজনীতির বগলতলে- নিজেকে ভাবছো নবাব! অনিয়ম তুমি আগেও করেছ- ফসকে গিয়েছ সেবার। বুয়েট তো আর কুয়েট নয়- কোথায় পালাবে এবার! ছাত্রনেতার আবদার তুমি- পূরন করেছ হেসে। আম ছাত্রকে ‘না’ করেছ- ছাগলের মত কেশে! তোমার মদদে […]

ঝপাৎ

মহাজ্ঞানী-আইনস্টাইন ই-বলেছিলেন-“বস্তু গড়ায়।” “মাধ্যাকর্ষ-দুদ্ধপোষ্য-নয় সে দায়ী-প্রেমে পড়ায়!” যতই ভাবি-নাই কো চাবি-খুলতে দাবি-রুদ্ধ দুয়ার। কিংকর্তব্য-বিমুর হয়ে-বনে যাবি-ব্যাঙ যে কুয়ার! নেইতো পানি-তবুও জানি-অনেক খানি-হাম্বরি লাফ। ভাংলে তালা-মনের জ্বালা-মিটিয়ে শালা-বকবি প্রলাপ! হায় অভাগা-কামান দাগা-নাইতো গোলা-বল তাতে কি? মনের জোরে-ফড়িং ওড়ে-বাদুড় ঝোলা-দারুন ঝাঁকি! মনের ক্ষুধা-কোথায় সুধা-হায় বসুধা-হচ্ছে দ্বিধা। প্রশ্ন যত-ইচ্ছে মত-যায় পেঁচিয়ে-হয় না সিধা! ভালবাসি-সর্বনাশী-সর্বগ্রাসী-তোমার হাসি। ভালবাসা-মিথ্যে আশা-জল পিপাসা-হুপিংকাশি! […]

ঝিমিকি

ভেবেছিলাম কাছেপিঠেই কোথাও লুকিয়ে আছো তুমি, কোন এক পড়ন্ত বিকেলে ঝা বলে বেড়িয়ে আসবে হঠাৎ! আমার পিঠে হাত রাখবে, বলবে- আমি ছিলাম, আমি আছি, আমি থাকবো। কিছুই হয়নি এসব, যেখানে তোমাকে লুকোনো ভেবেছি- সেখানে তুমি ছিলেনা কখনো!   ভেবেছিলাম তুমি এলে পরে কবিতাগুলো পূর্ণতা পাবে, আমার জমানো যাবতীয় লেখা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেব তোমার সর্বস্ব! তুমি […]

ঝাঁ চকচকে শহর

এ শহর আবার বুঝি কান্না করবে, প্রকৃতি এখানে হাউমাউ করে কাঁদেনা, ছিঁচ কাঁদুনের মতই এর ছোট ছোট কান্না। সেই কান্নায় ডোবেনা কিছুই, শুধু চোখের নীচটা ধুয়ে যায়।   মেঘ করেছে, স্যান্ডিয়ার কিয়দংশ ঢাকা পড়েছে কালো মেঘে, জনসন ফিল্ডের ঘাসগুলো গলা ভেজাচ্ছে বর্তুলাকার ফোঁটায়। আকাশ তুমি ভেঙ্গে পড়ো, পাহাড় বেয়ে নেমে আসুক মেঘ, সব ভিজিয়ে চুপসে […]

ঝঞ্ঝানিল

অদৃশ্য তুমি অন্ধকারের মতই প্রশস্তি দিতে, দৃশ্যমান তুমি সেতো অসহ্য যন্ত্রণা। আবারও তুমি পাখি হও; কিংবা কর্পূরের মত উবে যাও, তবু থেকোনা এ তল্লাটে! এর কোন কারন নেই, কোন মানেই হয়না এই নষ্ট পৃথিবীর। অতৃপ্ত আমি পালাবো কোথায়? কাছে গেলে খসে পড়ে খোলা জানালাও! কেনই বা ভনিতা দিয়ে ভয়ঙ্কর সুন্দর করেছিলে ভোর? এরপর ধূমকেতু হয়ে […]

দেশের খবর

ইদানিং- খবরের কাগজে চোখ বুলোলেই পিলে চমকায়, হাসি কান্নার মিথস্ক্রিয়ায় মুখে মাছি ভনভন করে। দু’কলম লিখে কি লাভ? চেঁচিয়েই বা কি গতি সুয়োরানী-দুয়োরানী আর তাঁদের পঙ্গপালদের দেশে? দানবেরা বসেছে গদিতে, মিউজিক্যাল চেয়ারে ট্যিপিকাল জারেরা সূর্যের মতই ঘুরছে, পিলো হয়েও কিলোচ্ছে দাঁত যত আপামর! বুদ্ধিজীবীরা বুদ্ধ সেজেছে! স্বয়ং বোধিবৃক্ষ হয়ে বসে আছে পৃথিবীর আনাচে কানাচে; যেন- […]

স্যান্ডিয়া তোমাকে

এমন সুস্পষ্ট পাহাড় আমি কোথাও দেখিনি। রেক সেন্টার থেকে বেড়িয়েই জনসন ফিল্ড, দ্রুত লয়ে এই মাঠটাকে পাশ কাটিয়ে গাড়ি অব্দি যেতে আমি কখনো পারিনি।   সবুজ শীতল ঘাসে গোড়ালি ভিজিয়ে প্রতিটা বিকেল আমি পাহাড় দেখেছি। ঝলসানো সাদা বালিকার মত দূর থেকে দেখি কাগজের গাল, এই মাত্র যেন শ্যাওলা পুকুরে ডুব দিয়ে ওঠা ইনক্রেডিবল হাল্কের ঠোঁটে […]

ঘুম ভাঙ্গার শব্দ

অদ্ভুত এক যন্ত্রণা নিয়ে ঘুম ভাংলো। কোথাও জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে কপাল! জানলায় দেখি পূবের পাহাড় দিব্যি দাঁড়িয়ে। বুকের ‘পরে লেপ্টে আছে সকাল। আধোতন্দ্রায় ঢোঁক গিলি। ঠাণ্ডা জল গলায় গড়িয়ে; আমি নিজেও আবার গড়াই। ঘুম যেন পালিয়ে না যায়, তাই আলোর চে’ বেশি বেগে ভোরের ভুল সরাই! চার্চে ঘণ্টা বাজে। পৃথিবীর আমলনামায় আরও একটা রাত হয়তো- […]

প্রথম প্রেমের কবিতা

তোমাকে ভালোবাসি তাই- বাসি ভালো তোমার যা সব, তোমাকে ভালবাসি তাই- মিশে যেতে চাই- তোমার কোমল হাত ধরে দূর দিগন্তে চিরতরে- ছেড়ে সব বৈভব।   তোমাকে ভালবাসি তাই- বাসি ভালো শুধুই তোমাকে, তোমাকে ভালোবাসি তাই- কেবলি তোমাকে চাই- চাই তোমার হৃদয় ও মন চাই কিছু মিঠে আলাপন- হৃদয়ের আবেগে।   তোমাকে ভালোবাসি তাই- বাসি ভালো […]

পাঁচ আঙ্গুলের আত্মকথা

আমরা পিঁপড়ের মত সারাদিন ছুটোছুটি করি, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খেটেখুটে মরি। আজীবন লেগে থাকি লোকেদের লোমশ দু,হাতে, সারাদিন কেটে যায় অন্যের ঈপ্সা মেটাতে। অন্ধকার ভোরে; স্নুজে মাথা রেখে দিন করি শুরু, অতঃপর গন্ধগোকুল ঘরে- আমাদের নিয়ে যান গুরু। টুথপেস্ট টিপে বের করি, সাদা সাবানের নেই ঘ্রাণ, মনিবের মুক্তির পরে- মুক্ত জলে করি স্নান। তার […]

রশীদ হলের প্রতাপশালী প্রেমিকেরা

আমরা একদা হাবুডুবু খেতাম প্রেমে, বয়স যখন নিছক নস্যি ছিল। প্রীতি জিনতার অবতল গাল ছাপিয়ে, ব্লাজার উত্তল প্রেম যখন উথলিয়ে পড়ছিল! কিংবা চান্দুর ইসপিশাল প্রেমগুলো, যাদের চেহারার কোন ছিলনা ছিরিছাঁদ। তবুও সে খুশিতে বাজাতো বগল, ওর উৎকট প্রেম দেখে কত ভুলেছি বিষাদ! বিবাহিত এক জনি কেনই বা জিমে যায়, এটা জানতে জি ও যেত জিমে। […]

মুখ ও মুখোশ

দাঁদন মিয়া আমাদের বাগানের মালী, সাদা দাড়ি গালে তার, লুঙ্গিতে তালী। ভোরবেলা এখানে সে আসে, প্রজাপতি ওড়ে চারপাশে। গাছের গোড়ায় দ্যান ফোয়ারার পানি, মাত্র পাঁচশো টাকা তার সম্মানী। ফুলের মউসুম ভরে কত ফুলে, বুড়ো দাঁদন হাসে প্রাণ খুলে। ছাত্ররা বৃদ্ধকে ‘চাচা’ বলে ডাকে, আর ফুল দিয়ে ‘এসো প্রাণ’ বলে প্রেমিকাকে।

যান্ত্রিকতা

ভাল্লাগেনা আর। ‘ধুত্তারী’ আর ‘ধুর ছাই’ বলে সময় করি পার। যান্ত্রিকতার মন্ত্র পড়ি অম্লে মেশাই ার। সবাই ভাবে বুয়েট জীবন চলছে চমৎকার। ভাল্লাগেনা আর। ইট পাটকেল গিলতে আমি আর পারিনা আর।