Archive by Author

ইশতিয়াকের ইস্তিরি

ইশতিয়াকের ইস্তিরি দাঁতগুলো তার বিছছিরি, কোদালমার্কা ফোকলা দাঁত, ব্যাপারটা বিতিকিছছিরি। ইশতিয়াকের ইস্তিরি বাপ ছিল তার মিসতিরি, তিরিশটা দিন পায়নি ভাত, ব্যাপারটা বিতিকিছছিরি। ইশতিয়াকের ইস্তিরি মাখতো মেরিল তাসমেরি, কসমেটিকের জাত-বেজাত, ব্যাপারটা বিতিকিছছিরি। ইশতিয়াকের ইস্তিরি একটু একটু সুশ্রী, কি মসৃন কোমল হাত, ব্যাপারটা বিতিকিছছিরি। ইশতিয়াকের ইস্তিরি ভাল্লাগেনা ধুত্তারী! কাটতে চায়না লম্বা রাত, ব্যাপারটা বিতিকিছছিরি।

একাত্তর এখন

প্রিয়! তুমি গেলে আমাদের বিয়ের রাতে। আকাশে চাঁদ ছিল কিন্তু চাঁদনী ছিলনা। বাতাসে মাটির সোদা গন্ধ ছিল কিন্তু রক্ত ছিলনা। প্রিয়! তুমি গেলে আমাদের বিয়ের রাতে। প্রিয়! তুমি গেলে যুদ্ধক্ষেত্রে। একা ফেলে আমাকে চাঁদের সাথে। একা ফেলে আমাকে সোদা গন্ধে নাকি রক্তে? প্রিয়! তুমি গেলে এবং যুদ্ধেেত্র… প্রিয়! তুমি গেলে চিরতরে! মিলন ছেড়ে তুমি বিরহে […]

কবিতার প্রাণ

যখন আমার অফুরন্ত অবসর, কর্মহীন অকর্মন্য জীবন, অলসতা যখন করে গ্রাস তখন আমার চিত্তালোকে কালো মেঘের ঘনঘটা। কবিতার চরনগুলো অবগুণ্ঠিতার মত লুকিয়ে থাকে আড়ালে, দেয়না ধরা। যখন আমার কর্মবহুল হাহুতাশ, অবকাশহীন ব্যস্ত জীবন, কাজের মধ্যে বাস। তখন আমার হৃদয়াকাশে চেতনার উদ্ভব। পাই ছন্দের স্পন্দন, স্পষ্ট স্পর্শ তার, মরিচীকার প্রেমিকার মত সে করে আহবান বাড়িয়ে দু’হাত। […]

তোমার জন্য

তুমি ব্যাতিত-কন্টকীত-পথ যে আমার হৃদয়পটে ব্যাথার প্রহার। তুমি ছাড়া-ছন্নছাড়া-জীবন আমার নাই ঠিকানা-পথের দিশার। তুমি হীন-যায় ঢেকে দিন-তমস্রায় হৃদয় যেন চুর্মাচার। তুমি না এলে-আগুন জ্বেলে-দুঃখ করি সুর তুলে যাই-লিড গিটারে। তুমি এলে-পথের কাঁটা-ফুল হয়ে রয় পথের ধারে-নির্বিচারে। তুমি সহ-বার্তাবহ-সময়গুলি পথের ধূলি-দীপ্তি ছাড়ে। তুমি এলে ফির-কাল বোশেখীর-রাত হয়ে যায় জোৎস্নাঢালা-সৌদামিনীর। তুমি বিনা-আমি পারিনা-সামনে যেতে ঠান্ডা মাথায়-হতে স্থির। […]

তোমাকে ভালবাসি তাই

তোমাকে ভালবাসি তাই-ভালবাসি তোমার যা সব তোমাকে ভালবাসি তাই-মিশে যেতে চাই-তোমার কোমল হাত ধরে দূর দিগন্তে চিরতরে-ছেড়ে সব বৈভব। তোমাকে ভালবাসি তাই-বাসি ভাল শুধুই তোমাকে। তোমাকে ভালবাসি তাই-কেবলি তোমাকে চাই-চাই তোমার হৃদয় ও মন। চাই কিছু মিঠে আলাপন-হৃদয়ের আবেগে। তোমাকে ভালবাসি তাই-বাসি ভাল তোমারি নয়ন তোমাকে ভালবাসি তাই-সেথায় দেখতে পাই-রাজ্যের রূপ তুমি অপরূপ-অপরূপা! করি তোমারি […]

উত্তপ্ত কাব্য

আর কবিতা লিখে কি হবে? যখন মানুষ জাতি বিবেক হারিয়ে নেমেছে পশুত্বে পাশবিক উৎসবে! আর কবিতা লিখে কি হবে? যদিনা বাঁচাতে পারি নির্দোশ সহপাঠিকে সন্ত্রাসের হাত থেকে। আর কবিতা লিখে কি হবে? যখন কবিরা আর কবি নেই উত্তপ্ততা আর বিষাক্ততার মাঝে, অসৎ আড্ডায়, নিষিদ্ধ সব কাজে। কবিতা লিখবো কেমন করে? যখন দারিদ্রের দেশে সামান্য সস্তা […]

গরম ছড়া

হরদম নেই দম নেই বেশী দেই কম নিতে গিয়ে কথা কম দিতে মুখ গমগম। হররোজ তার ভাল চাবি ভাল তালা ভাল ভাবি ভাল খালা ভাল ভিখিরির থালা ভাল থিয়েটার পালা ভাল নদ্দমা নালা ভাল আগুনের জ্বালা ভাল। তাল ভাল ভাল তাল তবুও তো ভাল নয় হরতাল হরতাল। হরতালে ইয়ে হয় রাস্তাতে দিয়ে নয় নাস্তাতে পাউরুটি […]

রবীন্দ্রনাথ

শত সহস্র রজনী পরে ধরণীর মাঝে ঐ ধুমকেতুর ঘুম ভেংগে যায় স্বরনীয় সাঁঝে। কালকাশে মুক্তদানা আলোর রেখায় তারই পাশে স্থির আকাশের মাঝে চঞ্চলময় ঝড় বয়, দেখে যা পৃথিবীর পানে ভাসে। আগমনে উজ্জ্বল যুগ তাঁর ঐ মুখটা সোনার ছোয়াতে খাঁটি করে চলে মানবের হৃদয়াকাশে। মহামানবের বানী নিয়ে ঐ রবি এসে যায় চলে, যায় রেখে তাঁর চিত্রকলার […]

এবং আমি

কবি মোস্তাকুর রহমান সন্ধানের জন্ম ১৯৮৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বরে রংপুর শহরে। তাঁর বাবা একজন প্রকৌশলী এবং মা একজন গৃহিনী। কবি শৈশব থেকে কবিতা লিখে চলেছেন কিন্তু তাঁর কবিতা কতটুকু পূর্ণতা পেয়েছে এ ব্যাপারে তিনি সন্দিহান। এ পর্যন্ত তার কোন কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি যদিও কলেজ জীবনের সায়াহ্নে ‘নিহারীকা ও নক্ষত্রবীথিকা’ নামে তিনি একটি ক্ষুদ্র সংস্করন বের […]

– কবিতার বিমূর্ত নগরী

হাজার হাজার মাইল পাড়ি দেয় একটি পাখি একটি পাখি হাজার পাখির একটি দলে তাদের পথে হাজার বাধা হাজার নদী সব পেড়িয়ে চলে তারা অকুস্থলে পথের মাঝে জিরোয় তারা পা ডুবিয়ে সরোবরে…   জিয়নকাঠি কবিতানগরী। কবিরা এর বিশিষ্ট নাগরিক। সব কবির হৃদয়ে বাস করে কবিতার ঘুমন্ত রাজকন্যা। সেই কাব্যকন্যার ঘুম ভাঙ্গাতে সবাই কি পারে! জিয়নকাঠি ছুঁইয়ে […]

শেষ কথাটি

মঞ্জুষ দাশগুপ্ত তুমি আমার বর্ষাদিনের সঞ্চারিণী পল্লবিনী মেঘলতাটি কেউ জানে না লুকিয়ে আছে চিলেকোঠায় তোমার আমার শেষকথাটি অন্ধকারে কালোজামের নরমছোঁয়া যায়নি ভুলে প্রৌঢ়বেলা ছিল তোমার মুখের ভিতর দন্ডরুচি কৌমুদীতে শাদা এলাচ এখন শুধু আয়না আছে প্রতিচ্ছবি কুমোরটুলির গেরুয়ামাটি

শেষ কিন্তু শেষ নয়

লিটন রশীদ হল বুঝলে অনেক ভেবে তোমার বিয়ের ফর্দ বানিয়ে ফেললাম। বুকের উষ্ণ রক্তে তোমার শ্বেতপাথরের পায়ে আলতা একে দেব, পোড়া পাঁজর খুলে তোমার ফুলশয্যার খাট বানাবো- বিশাল একখানা। সিগারেটের ধোয়ায় সেই শয্যার পাশে একে দেব বর্ণহীন মেঘ। পকেটের রুমালটা হবে তোমার বিয়ের শাড়ি, কষ্টগুলো হবে তোমার অলংকার। চোখের মনিটা খুলে এনে কপালের ঠিক মাঝখানে […]

আমার কথা

কবিতা লেখার হাতেখড়ি আমার শৈশবেই। সেই যখন সবে কাস থ্রীতে পড়ি তখন প্রথমবারের মত একটা পদ্য লিখি। গাছ নিয়ে লেখা সেই কবিতার মাঝে কাব্যমাধূর্য হয়তো খুজে পাওয়া যাবেনা তবে পরবর্তিতে প্রকৃতি আমাকে সত্যিই কাছে টেনেছিল। বিজ্ঞানের এ মাহেন্দ্রনে কাব্যচর্চা ও কাব্যের প্রতি অনুরাগ অনেকের কাছেই নিতান্ত অমূলক বলে মনে হতে পারে। তবু যারা গান ভালবাসে […]