Archive by Author

কী করছ এখন

কী করছ এখন? হয়তো ঝটিকা সফরে ঘুরতে বেড়িয়েছ পথে, কিংবা স্যাটেলাইটের সাথে বেঁধে রেখেছ চোখ! কী করছ এখন? হয়তো গৎবাঁধা গল্প জুড়িয়েছো ঘরে, কিংবা মুঠোফোনেই শুরু করেছ দীর্ঘ আলাপন। কী করছ এখন? হয়তো এই মুহূর্তে ইলেক্ট্রিসিটি নেই, কিংবা মহল্লায় হল্লা তাই মেজাজটাও গরম! কী করছ এখন? হয়তো কিছুই করছ না, কিংবা ‘কী করব’ ‘কী করব’ […]

কথোপকথন

[বহুদিন আগে…] আমি একদিন তোমায় বলেছিলাম-“তুমি হিমালয় দেখেছ?” তুমি বলেছিলে-“না! ওসব দেখে কী হবে?” আমি একদিন তোমায় বলেছিলাম-“তুমি সাগরের কান্না শুনেছ?” তুমি বলেছিলে-“কী বল? সাগর কি কাঁদে!” আরও একদিন তোমায় বলেছিলাম-“তুমি ‘বিকেলের মৃত্যু’ কি জানো?” তুমি বলেছিলে-“কেন? বিকেল কি বেঁচে নেই!” আরও একদিন তোমায় বলেছিলাম-“তুমি প্রথম বর্ষায় স্নাত হয়েছ?” তুমি বলেছিলে-“কী সব আজব কথা বল!” […]

হুট করে একদিন

হুট করে একদিন গুম হয়ে যাব দেখো, কেউ টের পাবে না। কারো মরাডাকে ফিরব না পিছু, মাথা উঁচু করে ধসিয়ে দেব দেওয়াল। তারপর হুট করে লুকিয়ে পরবো মঠে, পোড়বাড়ি কিংবা দূর্বাঘাসের ফাঁকে। হুট করে একদিন কেউ খুঁজে পাবে না আমায় আমি যে নেই এটাও একদিন; হুট করেই আবিষ্কৃত হবে! হুট করে একদিন গুম হয়ে যাব […]

বুদবুদ

এখন বুদবুদের মতো তৈরি হচ্ছে প্রেম; অজস্র। প্রেমের প্রাবল্যে ছানাবড়া হয় চোখগুলো, বুদবুদের মতো। এখন বুদবুদের মতো তৈরি হচ্ছে প্রেম; প্রকাণ্ড। বাড়তে বাড়তে একসময় গিয়ে ফেটেও যায়, ফুস করে, বুদবুদের মতো। এখন বুদবুদের মতো তৈরি হচ্ছে প্রেম; ওজনদার। প্রেমের ওজন হিলিয়ামকেও হার মানায়, প্রায়শ, বুদবুদের মতো। এখন বুদবুদের মতো তৈরি হচ্ছে প্রেম; ধুন্ধুমার। ফুঁ দিলেই […]

ইলশেগুঁড়ি

ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি যেমন খিল লাগানো বন্ধদুয়ার, মধ্যরাতের অন্ধচোখে তোমার মুখে মধুর লাগে লক করা এই লোহার সকাল। পলতে জড়া পিদিম যেমন জ্বলছে সুখের অগ্নিশিখা, বলছে প্রেমিক ভালোবাসা, কাল রাতের রক্তিমতা। টিনের চালে টাপুর টুপুর, রাত্রি যেন মধ্যদুপুর, ভরদুপুরে প্রেমের খেলা, ইলশেগুঁড়ি বুকের আগুন ইসরাফিলের হারমোনিকা।

রৌদ্রচয়ন

মিষ্টিরোদে জ্বলছে চালে ফাঙ্গাসপড়া কুমড়োলতাটা। তোমার বাহুর ডানা যেন রোদে চকচকে চায়ের পেয়ালা, বাচ্চা মোরগের তুলতুলে রান কিংবা আমাকে ছুঁড়ে মারা উজ্জ্বল মাংসবান, কামসর্বস্ব, ওমসম্ভবা কিংবা ঝাঁক ঝাঁক ফোটন। তোমার অথৈ যৌবন আর পিত্তি জ্বলানো অহম, ফুটছে আমার হৃদয়তৃষ্ণা, ঝলসে যাও তুমি। বেঁচে থাকুক কেবল রৌদ্রকিরণে আমাকে দেওয়া তোমার মিথ্যে কথাটা।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে

আমি যখন বারান্দায় বেরুলাম, আমি ভেবেছিলাম বর্ষা বুঝি নামল। না। বর্ষা নামেনি, কিন্তু স্পষ্ট দেখেছি আঁধার কাকে বলে। আমি যখন বারান্দায় বেরুলাম, আমি জানতাম নীরব শহর। না। শহর নীরব থাকেনি, কারণ স্পষ্ট শুনেছি বৃক্ষের চিৎকার। আমি যখন বারান্দায় বেরুলাম, মনে মনে তোমায় কামনা করছিলাম। না। তুমি আসনি, কেবল আঁধারে দেখেছি ছায়ার চেহারা। আমি যখন বারান্দায় […]

নীল দর্পণ

খুব সহজে ভুলতে পার তুমি, ঠিক যেভাবে শামুক-কন্যা খুলতে পারে খোল। খুব সহজে কঠিন থেকে আমি, তোমার কাছে বনে যাই বাষ্পীয়-তরল। খুব সহজে দিচ্ছ আমায় ফাঁকি, আবার খুব সহজেই ভুলিয়ে দিচ্ছ সব। খুব সহজে পাচ্ছ তুমি প্রেম, তাই হৃদপিণ্ডের রক্তিমতা হারাচ্ছে বৈভব। খুব সহজে আমায় জেনে গেছ, বুঝে গেছ তোমায় ছাড়া চলবে না আর আমার […]

অতলান্তিক

তোমার দেখা পাবে বলেই শৌখিন ঐ শালিকগুলো বিকেলবেলা চরকি নাচে তোমার বাড়ির ছাদে। তোমার দেখা পাবে বলেই তোমার পাড়ার বিড়ালগুলো খিদে পেলেই তোমার উঠোন মাতম করে কাঁদে ! তোমার দেখা পাব বলেই অলি গলি চষে বেড়াই কেন আমি শালিকও নই বিড়ালও নই ভাবি তা বিষাদে। তোমার চোখে পড়বে বলেই মাকড়শারা শব্দ করে টিকটিকিরা টিক করে […]

কৃষ্ণচূড়া

কৃষ্ণচূড়া ফুলের মতো টকটকে লাল তোমার ঠোঁটে, জানি না কোন কিমতিক্ষণে ফল্গুহাসির বন্যা ছোটে। জানি না ঠিক কোন কারণে লালচে আরও হয় দুটি ঠোঁট, কোন কারণে ফুলগুলি সব দাও ছিটিয়ে ওলট পালট। কৃষ্ণকালো রাতের মতো সুগভীর ঐ তোমার চোখে, জানি না কোন কাজল মায়ায় যাই তলিয়ে স্বপ্নালোকে। জানি না ঠিক কোন কারণে আয়তলোচন ঐ দু’টি […]

কাল ডে স্যাক

আমি যখন তোমার কথা অনেক বেশি ভাবি, জানি তখন মোটেও তুমি আমায় ভাব না। যখন ইচ্ছে করে তোমায় নিয়ে অনেক দূরে যেতে, তখন তুমি বলে ওঠ, “আমি কোথাও যাব না”। আমার যখন ইচ্ছে হয় থাকতে তোমার কাছে, তখন তোমার অনেক কাজ, অনেক কিছু করার। তোমার ডাকে তবু আমি যাই যে ছুটে ছুটে, তোমার পাশে থাকলে […]

বৃষ্টি

বৃষ্টির মতো মিষ্টি জলের গভীর আকুতি আজ চরিতার্থ হল, মনঃকামনার বিন্দুগুলো গলে গলে পড়তে লাগল পৃথিবীর ঊষর চিবুকে। তোমার ঝাঁপটায় বিমুখী দম্পতি ফিরে পেল সম্বিৎ, তোমার স্পর্শে ধুয়ে গেল যত শহুরে কালিমা। তুমি এলে তাই শান্ত হল কান্না করা খুকিটা, শ্রান্ত শ্রমিকের ঘাম পেল সুযোগ্য সহচর। কাকাতুয়াটা ভিজে চুপসে গেল অনেক দিন পর, তোমার বর্তুলাকার […]

হোয়াংহো

শহরের মানুষদের মন ভালো নেই। অজপাড়াগাঁর মানুষেরাই ভালো আছে। ওদের গায়ে ঘামের গন্ধ; কিন্তু উৎকণ্ঠার ঘ্রাণ নেই। বেলা শেষে হাঁড়ি না উপচালেও আছে উপচে থাকা প্রাণ! স্থবির সময়ে ওরা দিনাতিপাত করে। এ কারণেই ওদের ঘুম গাঢ় হয়। ওদের মতো শান্তিতে নাক ডাকতে শহুরেরা পারে না। শহুরেরা যা পারে তা হল ছুটোছুটি আর লুটোপুটি। গাঁয়ের চুনোপুঁটিরাই […]

ফুল, পাখি, ফানুস কিংবা ফাও

মাধবীর আসার কথা ছিল সেদিন বিকেলে। ফুল, পাখি, ফানুস কিংবা ফাও, এমনকি পাতাঝরা বিকেলের টানেও ও আসেনি। ওইদিন এখন সেকেলে। এই ফল সিজনেও হলুদ হয়েছে ছাউনি, আপেলের মতো লাল টসটসে প্রতীক্ষাও। মাধবীর কথাগুলো কানে বাজে। বাজে কথা ও বলত না একটাও। শব্দ নাকি হারিয়ে যায় না কখনো; শুধু হারিয়ে যায় মাধবীর মতো মিথ্যে! মাধবী কিছু […]

গুরুচণ্ডালী

যতই গুগলাই কিংবা দীঘির জল ঘোলা করি; তোমাকে পাই না। নিঃসঙ্গ শহরে কিংবা ব্যস্ত ব্রাউজারে কোথাও তুমি নেই; এমনকি তোমার টিকিটিও নেই! তোমারে পাইতে পাঁড় ব্রাহ্মণও পৈতা খুইলা ধনুকের ছিপ বানায়, কিন্তু তোমারে পায় না। তুমি পরিশেষে কোন পুরুষেরে আপনাও? কিংবা আদৌ কি আপনাও! আমি তোমার দর্শনই পাই না আর তোমারে পাইব তাহা ভাবিলে মুহুর্মুহু […]