Blog

স্যান্ডিয়া তোমাকে

এমন সুস্পষ্ট পাহাড় আমি কোথাও দেখিনি।

রেক সেন্টার থেকে বেড়িয়েই জনসন ফিল্ড,

দ্রুত লয়ে এই মাঠটাকে পাশ কাটিয়ে গাড়ি অব্দি যেতে আমি কখনো পারিনি।

 

সবুজ শীতল ঘাসে গোড়ালি ভিজিয়ে প্রতিটা বিকেল আমি পাহাড় দেখেছি।

ঝলসানো সাদা বালিকার মত দূর থেকে দেখি কাগজের গাল,

এই মাত্র যেন শ্যাওলা পুকুরে ডুব দিয়ে ওঠা ইনক্রেডিবল হাল্কের ঠোঁটে দুধের রেখা।

 

পুবের ও পাহাড় উইয়ের ডিবির মত ক্রমশ ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়।

সহস্র যুগ ধরে বেড়িয়ে আসা ভিতরটা ঠিক অ্যাভালাঞ্চের মতই চমকায়,

সুডৌল স্যান্ডিয়া তার রুক্ষ চাহনি নিয়ে চোখ মেলে বসে থাকা যেন এক উদোম প্রহরী!

 

শেষ বিকেলের রোদ লালচে চাদর বিছিয়ে দিয়েছে যেন সমস্ত পাহাড়ে।

এখুনি সূর্য ডুববে, পাহাড়ের উল্টো দিকে।

চলমান বিন্দু যেমন রেখা তৈরি করে স্যান্ডিয়ার চূড়াও তেমন দিগন্ত প্রসারী।

 

এইতো! নামকরনের সার্থকতা প্রমানে স্যান্ডিয়াও উঠে পরে লেগেছে আজ এই সন্ধ্যায়!

ওয়াটারমেলনের ভিতরটার মত লালাভ আলো ছড়ানো সে যেন আদতেই একফালি তরমুজ।

সবুজ ঐ গোলগাপ্পা ফলের মত স্যান্ডিয়ারো কি প্রাণ আছে নাকি সে নিস্প্রান কেতকী?

 

স্যান্ডিয়ার ক্লিভেজ এখুনি নিভে যাবে রাতের আঁধারে।

ওর পাথুরে চিবুকে ট্রাম বেয়ে উঠবেনা আর কোন যাযাবর।

র‍্যাটেল স্নেকের হিসহিস শুনতে পাচ্ছি, পাহাড়টাকে ফ্লাড লাইটের চে’ অপ্রতিভ মনে হচ্ছে।

 

সাদা-সবুজ-লাল অতঃপর কাল, স্যান্ডিয়া তুমি আর কত খেলা দেখাবে!

মাঠে এখন তরুণীরা কসরত করছে, মৃদু বাতাস দিচ্ছে।

মেঘের দেশে তলিয়ে যাচ্ছে পাহাড়, ক্রমশ…

 

বাড়ি ফিরতে হবে,

আতশবাজিতে দুচোখ ঝলসে যাওয়ার আগেই।

এমন সুস্পষ্ট পাহাড় বুকের ক্ষত হয়ে আমৃত্যু বেঁচে থাকুক আমার বিসর্গ মনে…