Blog

বাংলাদেশ

বরফে ছেয়ে গেল কাঁচের কার্নিস, তুষারে ঢেকে গেল আমেরিকান লেক।
ছেলেগুলো বরফের বল বানিয়ে খেলছে, ফুটে আছে নাম না জানা ফুল।
আমি জানি এমন হাজারটা ফুলও আমার দেশের একটি কদম নয়।
কিংবা বনবাদারে ফুটে থাকা ফুলের সমানও নয়। গন্ধবহুল জুঁই,চামেলী,বকুল
অথবা হৃদয়রাঙ্গা পলাশ কিংবা শিমুল, ওদের রঙে ম্লান এখানকার মুন্সিয়ানা।
পশ্চিমে সন্ধ্যা নামছে কে বলবে! কারন
সন্ধ্যামালতীর উন্মোচন দেখে কে দিপালী জ্বেলেছে?
অস্তমিত সূর্যের মাঝে কে দেখেছে পাখিদের নীড়ে ফেরা?
এখন আমি আমার মাটির সবুজ দেশের অনেক দূরে, তথাকথিত স্বর্গে!
স্বর্গ সেতো নদীর জলে, মাটির দলাতে, সবুজ পাতাতে আমার দেশে।
পাতাঝরা বিকেল আমি দেখিনা এখানে। আমকুড়োতে ঝড় ডিঙ্গিয়ে
কে নেমেছে আম্রকাননে অন্তত এখানে-এই ডেট্রয়েটে।
তুষার সেতো ফাও! বৃষ্টি কই? কোথায় আমার দেশের মত থৈ থৈ পানি?
আকাশে বাতাসে ধুলো ভিজবার গন্ধ?
মনে পড়ে বর্ষায় ভিজেছি দুজনে, মেঘে মেঘে ভালবাসার প্রাদুর্ভাব।
মিষ্টি কদমগন্ধে আমার ছেয়ে গেল মন। সারান ভাবি শুধু
একটি পাতা। সবুজ, হলুদ কিংবা শুকনো।
তবুওতো আমার দেশের একটি পাতা!
আমার দেশের জলে বাতাসে বেড়ে ওঠা।
পশ্চিমে আমি পাইনি খুঁজে প্রেম। প্রেম খুঁজতে আমি চষে বেড়ালাম সব।
মিলন দেখিনা মানুষে মানুষে, গ্রামের সহজ মানুষগুলোর মত।
ওখানে আমরা পরের দুঃখে কাঁদি, পরের সুখে আনন্দে ফের কাঁদি।
কান্না আমাদের বরফ গলা নদী, ওদের মত জমাইনা দুঃখ।
জানি এটা অনেক বড় দেশ। অর্থ বলে আমরা যোগ্য নই।
কিন্তু আমার কাদায় ভরা দেশ, তার তুলনা এই জগতে কই?
অনেক ঘুরেছি ইউরোপ মহাদেশ। জুড়িয়েছি চোখ।
পাশ্চাত্য চষে করেছি শেষ। অতঃপর
গাড়ির কাঁচের বরফ সরিয়ে আঙ্গুল ঘুরিয়ে
লিখেছি একটি নাম
আমার দেশ-‘বাংলাদেশ’।