Blog

পাঁচ আঙ্গুলের আত্মকথা

আমরা পিঁপড়ের মত সারাদিন ছুটোছুটি করি,

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খেটেখুটে মরি।

আজীবন লেগে থাকি লোকেদের লোমশ দু,হাতে,

সারাদিন কেটে যায় অন্যের ঈপ্সা মেটাতে।

অন্ধকার ভোরে; স্নুজে মাথা রেখে দিন করি শুরু,

অতঃপর গন্ধগোকুল ঘরে- আমাদের নিয়ে যান গুরু।

টুথপেস্ট টিপে বের করি, সাদা সাবানের নেই ঘ্রাণ,

মনিবের মুক্তির পরে- মুক্ত জলে করি স্নান।

তার চুল ঠিক করে দি’, জুতোর ফিতে নিয়ে খেলি,

খাবার টেবিলে গিয়ে- পাউরুটি ছিঁড়েছুঁড়ে ফেলি।

ফ্রিজের হাতল, সিঙ্কের নব, ফর্কের পা, গ্লাসের গলা,

ওভেনের সুইস, সার্টের বোতাম, পপকর্ণ বা পিরিচের তলা,

এতকিছুর ভিড়ে; বলো কাকে ছেড়ে কাকে গিয়ে ছোঁব?

আমাদের শুধু এক স্বপ্ন, আমরা একদিন পাখি হয়ে যাব।

 

এরপর চাবির গোছাটা ছুঁই, অফিসের ব্যাগ কাঁধে তুলি।

দরোজার গোল নব- পাঁচে মিলে প্যাঁচ দিয়ে খুলি।

বাইরের পৃথিবীতে- ব্যাস্ত বাবুকে নিয়ে ছুটি,

কখনো পকেটে বা গাড়ির হাতলে লুটোপুটি।

অতঃপর; সারাদিন কীবোর্ডেতে- মজনুর মত পরে থাকি,

মাঝে মাঝে মাউসে- আমাদেরই একজন- মারে মৃদু ঝাঁকি।

ফোনের কীপ্যাড টিপে টিপে, আমরা পাঁচজন ক্লান্ত,

আমাদের ঘাড়টা ফুটিয়ে তাই- প্রায়শই করা হয় শান্ত।

পরিচিত কারো সাথে দেখা হয়ে গেলে,

হাত বাড়ালেই শুধু স্বজাতির সঙ্গটা মেলে।

আমরা হেঁটে বেড়াই প্রেয়সীর চোখে-মুখে-গালে ও কপালে,

ঘাসে-বাতাসে, লতায়-পাতায়, আর শিশিরে-সকালে।

তিনে মিলে কলম নি’ কোলে, দুইয়ে মিলে সিগ্রেট ফুঁকি,

পাঁচে মিলে মুষ্টি পাকালে, আশেপাশে বেড়ে যায় ঝুঁকি।

প্রজাপতি বসে থাকে ফুলে, আমরা দুজন ধরি ডানা,

মানুষটা এঙ্গেজড হলে, গলায়- রিং ঝুলোতে নেই মানা।

বিকেলে পাগলটা থাকে রঙে, আয়োজন করে গান ধরে,

আমরাও নেচে বেড়াই সঙ্গে, বাঁশিতে বা গিটারের তারে।

অতঃপর রাত্রি হলে পরে, আমরা লেপ্টে থাকি চাদরে,

আমরা পাঁচ জন একপ্রান, সংঘর্ষে কিংবা আদরে।

আমরা পাঁচ জন অসমান, কিন্তু আমাদের একটাই ইচ্ছে…

একদিন পাখি হব, আকাশের চাঁদ যে-আমাদের-হাতছানি দিচ্ছে।