Blog

ধুলোট

ধুলাতে না চেনা যায় ধুলিময় তাহারে।
কি সাধে সে ধুলা মাখে দেখ দেখ আহারে!
ধুলি যেন রঙতুলি, ধুলা যেন তুলারে।
ধুলা নিয়ে খেলা করে ছোট ছেলে গুলারে।

কালোছেলে কাদাজলে আরো হল ভালোরে।
দেখে যারে কাদাজলে ঝরে পড়ে আলোরে!
কাদাগুলা থোকাথোকা, ছেলেগুলা বোকারে।
কতো পোকা চোখাচোখা , ফিরে আয় খোকারে।

কিভাবে সে ফিরে আসে মাটি তার ঘাঁটিরে,
খাঁটি মাটি পরিপাটি, শীতলের পাটিরে।
মাটির ছেলে আমার, মাটিতে কি খেলারে!
অযতনে বেড়ে ওঠে, কেটে যায় বেলারে।

কচিকণা চারি আনা, চারি আনা জলারে,
চারি আনা রোদ্দুর, হয়ে গেল দলারে।
বাকি চার ও খোকার দু’বাহুর বাহারে
পরিনত হল কত ইমারত আহারে!

ধনীর দুলাল মাখে কত প্রসাধনীরে!
ছেলেগুলা মাখে ধুলা, ধুলা যেন ননীরে।
নবাবেরা খায় সেরা খাবারে ও দাবারে,
ভুখাপেটে খোকা সেঁটে পড়ে থাকে ভাগারে।

ওরে মা, দেখে যা, দেখে যা রে কান্ড!
ছেলে তোর কাদাখোর, হাভাতে রোলান্ড।
তাও ভাল গাজাখোর, অনাচার নয়রে
এমন মাটির ছেলে ক’জনার হয়রে।

মা জননী করে কাজ ধনাঢ্য সদনে
ছেলেগুলা মাখে ধুলা অম্লান বদনে।
এসবেরই মাঝে আছে আগত ভূপতিরে
খুঁজে নাও মাটি ঘাঁটি খাঁটি হীরা মতিরে।
মাটির মাশুক হল সেই ছেলে গুলারে
সুখ পেলো রাঙাতে হেসে খেলে ধুলারে।
বাঁচাতে মাটির মান মহীয়ান সমরে
একাত্তরে একাতরে প্রাণ দিলা নমঃরে।

ধুলাতে না চেনা যায় ধুলিময় তাহারে।
কি সাধে সে ধুলা মাখে দেখ দেখ আহারে!
ও খোকা! কাঁদিস কেন? কাদায় কাজোলরে।
বাংলার মাটি সে তো জননীর কোলরে।