Blog

ঝ’ তোমাকে ঝাউবন

বর্ষার পালতোলা নায়ে আর খালবিলে কিলবিল মাছে
আছে কী না জানিনা সুখ। তবু জানি আছে ভেজাভেজা;
আমার অনুভূতি! সুতির ফতুয়া,যার হাতদু’টি ফুল,
বুকখোলা, যায় দেখা লোম।
মাঝী কী না জেলে তুমি বলো। তোমার-
লোমে দেখি গুটিগুটি জল। ওকি ঘাম নাকি নদীর যৌবন?
নাকি মেঘের বীর্য, অমৃত রস?
যদি তাতে সংশয় থাকে তবু এতে নেই সন্দেহ-
হঠাৎ হঠাৎ যে শুনছি আওয়াজ কিংবা গর্জন
তা মেঘের আপন ভূবন, মেঘে মেঘে প্রণয়ের সূর!
জলে জলে কত কোলাহল। পাখিগুলো ভেজাতুলো যেন আর
গৃহিনীর কোমল বাহুডোরে জড়ানো পুরুষ-যে গৃহস্থ।
আর যে ভাসিয়েছে তরী, ভিজে গেছে যার চুলগুলো
তার বউ বসে বসে ভাবে-‘আহা তুমি কোন নদে পড়ে আছ গো!’
খড় গলে জল পড়ে ঘরে। আর মেঝে ভিজে সব একাকার।
কাঁথা মুড়ে পড়ে থাকে ঘুমে-সদ্যজাত এক মানব সন্তান।
স্যাতস্যাতে কাদাকাদা ঘরে-সেই ছেলে পড়ে থাকে বেশ।
সর্দিতে আর কাদার স্তুপে-কানায় কানায় ভরে তার শৈশব।
বিদ্যুৎই বলো আর বিজলীই বলো, তার চিৎকারে সে ওঠেনা চমকে।
সাহস আর ুধার অভিজ্ঞতা তার শুষ্ক ঠোঁটের কোনে যেন মাতৃস্তন।
বেশ বৈষম্য-তার আর একজন শহুরে বালকের প্লানেটেরিয়ামে!
যেমনটি অশ্র“ আর ঘামে, বৃষ্টিতে আর বিষ্টাতে,
বাঘিনীর হুংকারে আর রাগিনীর শৃঙ্গার-সুরে!
যেমনটি জমিতে লাঙ্গল দেয়া ঝড়ে আর শীতে এবং বিশুষ্ক উষ্ণ ঠোঁটের লাঙ্গলে
প্রেমিকার রক্তিম মুখে খৈফোটা চাষ উদ্দীপ্ত দুপুরে।
যেমন জলের উচ্ছ্বাস-ভাটিতে আর উজানে।
তবু প্রভু জানে আমার অনেক ঝিঁঝিঁপোকা আর
বিস্তির্ণ উপত্যকা জুড়ে ঝর্ণা বিধুর! তবু
ঝ’ তোমাকে ঝাউবন দিলাম। টুকেরেখ কালের হালখাতায়।
পালের হাওয়ায় তুমি উড়িওনা প্রাণ কারন
এমনিই বর্ষায় ভেঙ্গে আছে মন।
মনে রেখ-মন ভাল নেই।
মনে রেখ-নেই আমার মন।
যেমনটি জোনাকীর রিকম্বিনেট ডিএনএ দিয়ে
তামাকগাছে আলোর বিচ্ছুরন!
এক অমানবিক অপচেষ্টা!
তবুও
তোমার পদধ্বনি-পালে যেন বাধা, প্রতিকূলতা। আর
বিধ্বংসী কালোমেঘ যেন-তোমার ঘন কালো চুল।
ঝ’ তোমাকে ঝাউবন দিলাম।
কতো কাঁটা!
তুলে নাও ফুল!