Blog

খুলনা জয়ের ছড়া

জিততে জিততে হয়নি জেতা, হয়নি করা ড্রও।

টেস্ট হেরে তাই আহত বাঘ; বারুদ করে জড়ো!

নতুন নতুন ডোরাকাটা উনিশ কুড়ির বাঘ,

নাড়ি কেটেই হাক দিয়েছে সবাইতো অবাক।

সাকিব নেই এই সিরিজে মনটা ছিল ভার,

ফিল্ডিং আইন চেঞ্জ হয়েছে, কি হবে এবার!

আমরা যখন ভেবে মরি, স্যামি তখন হাসে।

গেইল-স্যামুয়েলস-ব্রাভোরা আছে যে তার পাশে!

টি-টুয়েন্টি চ্যাম্পো ওরা, আমরা কি ভাই কম?

কদিন আগে এশিয়া কাপেই দেখিয়ে দিয়েছি দম!

ভেবেছিলাম সেয়ানে সেয়ানে জমবে লড়াই ভারি,

এই ভাবাটাই ভুল ছিল হায় এখন বুঝতে পারি!

নিস্তরঙ্গ একপেশে প্রথম দুটো খেলায়,

বাঘের কাছে হুলোবেড়াল হারলো অবহেলায়!

প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুশোর নিচে বুকড,

টেস্টের পর গেইল আবারো গাজীর হাতে কুকড!

এক ম্যাচে চার ডেবুট্যান্ট যদিও ছিল রিস্ক,

বাঘের বাচ্চা বলেই ওরা “ভয়াবহ মিক্স”!

আনামুল-মমিনুল, আবুল আর গাজী,

স্যামি বলে “দুধের শিশু- এত্ত বড় পাজি!

এখন বুঝি বাঘের দুগ্ধ কেন এত দামি।”

আবুলের চাহুনিতেও কাঁপে এখন স্যামি!

মাশরাফি সিমন্সকে করলো কুপোকাত,

রাজ্জাক আর গাজী মিলে তুলে নিল সাত।

দুশো রানের লক্ষ্য পেয়ে তামিম উঠলো ফুঁসে,

আনামুল-নাইমও তখন রান ভরলো ঠুসে।

দশ ওভার হাতে রেখেই সাত উইকেটে জয়,

স্যামির চোখে অবিশ্বাস “এমন হবার নয়!”

বলল স্যামি “পরের ম্যাচে জিতব হেসে খেলে।”

জানতোনা সে বাঘ কখনো যায়না শিকার ফেলে!

উপরন্তু ডিসেম্বরে বাঘেরা বেজায় গরম,

সর্বস্ব কেড়ে নিলে কই লুকোবি শরম!

বলল পোলার্ড “চান্স পেলেই বল পাঠাবো ঢাকায়!”

যাকনা দেখা বলটা সে আজ কোন শহরে পাঠায়?

দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে- স্যামির ক্রূর হাসি,

বোলিং করে বিডির মতোই হবেন সর্বগ্রাসী!

সর্বনাশটা হয়েই ছিল; তামিম যখন আউট,

নাইমও উইকেট বিলিয়ে দিলে- রইলোনা তার ডাউট।

তার ধারনা মিথ্যে করে- আনামুল আর মুশ,

পোনে দুশোর জুটি দুজন- গড়লো নিরঙ্কুশ!

আনামুল শতক করেই- গোটা কতক ছয়,

মাশরাফিও শেষ ওভারে- নিশংস নির্দয়!

পাহাড় প্রমান লক্ষ্য পেয়ে ব্রায়ান লারার দল,

তাসের ঘরের মতন ভেঙ্গে অশ্রু টলমল!

রাজ্জাক আর গাজী মিলে এবার নিল ছটা,

মাশরাফি গেইল বাবাজীর বাজালো বারোটা!

ম্যাচ হেরে স্যামি বলেন “তোরা যে কি কস?

জয়তো আমরা পেয়েছিই, যদিও সেটা টস!”

মুচকি হেসে পোলার্ড বলে “ভুল বুজেছিস ভাই!

কোন বলটা ঢাকায় যাবে তাতো বলি নাই!”