Blog

এবং আমি

কবি মোস্তাকুর রহমান সন্ধানের জন্ম ১৯৮৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বরে রংপুর শহরে। তাঁর বাবা একজন প্রকৌশলী এবং মা একজন গৃহিনী। কবি শৈশব থেকে কবিতা লিখে চলেছেন কিন্তু তাঁর কবিতা কতটুকু পূর্ণতা পেয়েছে এ ব্যাপারে তিনি সন্দিহান। এ পর্যন্ত তার কোন কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি যদিও কলেজ জীবনের সায়াহ্নে ‘নিহারীকা ও নক্ষত্রবীথিকা’ নামে তিনি একটি ক্ষুদ্র সংস্করন বের করেছিলেন। কৈশোরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে দু’একটা কবিতা ও গল্প ছাড়া তিনি স্বনামে ও ছদ্মনামে পরবর্তিতে তেমন কোথাও লিখেননি। কবির পৈত্রিক নিবাস নীলফামারী জেলার কিশোরীগঞ্জ থানায়। বাবার দিক থেকে তিনি পেয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমের ব্যকুলতা আর মার দিক থেকে পেয়েছেন সাহিত্যচর্চার অনুপ্রেরনা। কবির নানা মরহুম মকবুল আলী ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম আব্বাস উদ্দীন একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা। মকবুল আলীর পিতা মৌলভী খেরাজ আলী ছিলেন একজন সমাজসেবক এবং তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খাতুনিয়া লাইব্রেরী । বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেসময় তার লাইব্রেরীতে বেশ কটি কাব্যগ্রন্থ উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। কবি মোস্তাকুর রহমান রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে ২০০২ সালে মাধ্যমিক এবং একই কলেজ থেকে ২০০৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর কবি স্থান করে নেন বাংলাদেশের সর্বচ্চ বিদ্যাপীঠ বুয়েটে। বুয়েটের যান্ত্রিক জীবন যে কবিতা লেখার পক্ষে অনুকূল নয় তা বুঝতে কবির সময় লাগেনি। ব্যস্ত জীবন আর কৃত্রিমতা থেকে ক্ষণিক মুক্তির আস্বাদ গ্রহনের প্রয়াসেই কবি সেইসময় হাতে তুলে নেন জিয়নকাঠি। ২০০৯ সনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরকৌশল বিভাগে স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর লক্ষে কবি পাড়ি জমান আমেরিকায়। ২০১২ তে ইউনিভার্সিটি অফ নিউ মেক্সিকো থেকে মাস্টার্স শেষ করে কবি সম্প্রতি পিএইচডি শুরু করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যারোলিনায়। প্রবাস জীবনও কবিকে উপহার দিয়েছে অগুন্তি কবিতা। সেগুলো খুঁজলেও হয়তো পাওয়া যাবে এই জিয়নকাঠিতে!