Blog

উত্তপ্ত কাব্য

আর কবিতা লিখে কি হবে?
যখন মানুষ জাতি বিবেক হারিয়ে
নেমেছে পশুত্বে
পাশবিক উৎসবে!

আর কবিতা লিখে কি হবে?
যদিনা বাঁচাতে পারি
নির্দোশ সহপাঠিকে
সন্ত্রাসের হাত থেকে।

আর কবিতা লিখে কি হবে?
যখন কবিরা আর কবি নেই
উত্তপ্ততা আর বিষাক্ততার মাঝে,
অসৎ আড্ডায়, নিষিদ্ধ সব কাজে।

কবিতা লিখবো কেমন করে?
যখন দারিদ্রের দেশে সামান্য সস্তা কালি
পায়না কবিরা রোজ।
কেউ করেনাকো খোঁজ।

কবিতা লিখবো কেমন করে?
আর ওঠেনা ভাবের আকাশে-পূর্নিমার ভরাচাঁদ
ভাবের অভাবে কলম চলেনা
শূন্য শূভ্র সস্তা কাগজে আজ।

কবিতা লিখবো কেমন করে?
একাত্তরের রাজাকার আজ সিংহাসনে
শহীদদের রক্ত আজ মিউজিয়ামে
ইতিহাসও ছন্নছাড়া চূর্মাচার।

কবিতা উৎসর্গ করব কাকে?
পাড়ার চিরায়ত বড়ভাইকে?
যে আমার নরম কোমল হাতে
গরম অস্ত্র তুলে দিতে ডাকে?
নাকি যতসব জননেতাদের
যারা আজ নেতৃত্বে নেমেছে
নরম গদিতে বসতে,
অর্থের হিসাব কষতে?
শাসন আজ শোষনের জালে
পেঁচানো রন্ধ্রে চেঁচানো খাঁচায়
বন্দীদশায় ঠাসা।

আর কবিতা লিখে কি হবে?
যদিনা কবিতা বলেনা কো আর
হৃদয়ের রঙিন কথা
আর ভালবাসা।

কবিতা আসলে কি?
ছন্দ মিলালে সে কবি?
সকল কবিই কবিতো হয়না।
সকল কবিতা হৃদয় ছোঁয়না।
কবিত্বতো সহজ নয়।
নয় ছেলের হাতের মোয়া।

কবিতা কি সহজে হয়?
অন্তত এদেশে।
যেখানে সহজে যায়না বলা
জয় বাংলা বুলি।
এদেশে এখন আগের মতন
গায়না কো বুলবুলি, সহজে।
সহজে হয়না কিছু,
অন্তত এদেশে।

যেখানে ছোট চাকরী পেতেও
বেকারদের ঘাম ছোটে।
ওরাতো বেকার।
কারন ওদের নেই মন্ত্রী-তন্ত্রী
কিংবা পকেটভারি মামা,
এখানেও হয়নি থামা
একবেলা পেটপুড়ে অনেকে পায়না খেতে।
সহজ, অত সহজ নয় এদেশে।
গরীব মায়ের চোখের মনি
অকালে মরে পিলেতে।
মা তো আর জাতির মাতা নন যে
পকেটে পয়সা নিয়ে
ঊড়ে যাবেন বিলেতে,
আজো মোরা মরি পিলেতে।

আজ আর কোন কবির কবিতাই
হয়না অজর, শিকলভাঙার গান
কিংবা সোনার তরী,রূপসী বাংলা,
বাংলা মায়ের প্রাণ।
রূপ হারানো রূপসী বাংলায়
আজো রূপ দেখে কবি।

কিন্তু কবিতা লিখে কি হবে
অন্তত এখন, এদেশে…