Blog

অ্যাল্বাকার্কি ২

মৃদু মেঘ তার তুলো তুলো অবয়ব নিয়ে এসেও আসেনি আজ তপ্ত দুপুরে,
শক্ত কোথাও সে খায়নি হোঁচট তাই বৃষ্টি মুখর দিন হয়নি আমার।

হয়নি কিছুই তাই বলার মতন তবু ভাবছি শহর কেন বৃষ্টি শীতল,
দৃষ্টি সীমায় কেন হিম জনপদ, কাঁদছে না মেঘ কেন কাঁদছে পাহাড়।

মলিন দিগন্ত তুমি বড় উদাসীন, বিকেলে তোমার মুখ বাংলা পাঁচের মতন,
সন্ধ্যা নামলে এখানে ডাকে না ঝিঁঝিঁ, মৃত পাখিরা শোকে করে যে মাতম।

আকাশের অনেক কাছে এই উপত্যকার বুকে সূর্যের লোভাতুর চোখ,
চকচক করছে যেন চকমকি পাথর, তবু বয়ে চলে একটি নদী; নিভৃতে।

পূর্বের প্রকাণ্ড পাহাড়গুলোকে পাশ কাটিয়ে কীভাবে প্রতিদিন সূর্য ওঠে?
আর কীভাবেই বা পশ্চিমে হেলে পড়ে ঠিক ভল্কানোটার জ্বালামুখে!

কীভাবে জনসন ফিল্ডের সবুজ ঘাস উদোম পায়ের পাশাপাশি হৃদয়কেও টানে?
কী করেই বা হেলানো সূর্যের আভা বাদামী পাহাড়কে দেয় লালচে আবরণ।

কিছু না জেনেই প্রেমে পড়েছি এই নীরব নগরীর, অধ্যবসায়ী এক প্রেমিকের মতোই।
তবু গন্ধমে ঠোঁট ছোঁয়ানোর মতো আমারও আকুতি “পূর্বের ও পাহাড় আমি কী করে ডিঙোই”!

পাহাড় পেরুলেই যেন মাকে দেখতে পাব, দেখব বাংলাদেশ নিয়েছে ঐ ক্ষুদ্র আয়তন।
টেক্সাস তুমি ভূখণ্ড ছেড়ে দাও, আমার অলিন্দ নিলয়ের হোক সুসম বণ্টন।
সন্ধ্যায়, সুন্দরীরা হেসে লুটোপুটি খায়, ঘরমুখো গাড়িগুলোর সাদা আলোর সাথে পাল্লা দিয়ে।
তবু এ শহর যেন মোহেঞ্জো-দারো, আকাশে ফ্যাকাসে চাঁদ দেখি কাঠের জানলা দিয়ে।

রাত্রি হয়, দূরের বাতিঘর ক্রমশ দীপ্তি হারায়, পাহাড় লুকায় মুখ এক অদৃশ্য চাদরে।
অতঃপর অলিক বর্ষা নামে, ব্যাকুল বারিধারায় ঘুমায় ‘ছুটি’র ফটিক পরম আদরে।