Blog

অনামিকা

অনামিকা!
তোমার কিন্নর কণ্ঠ আঘাত হানে
আমার অডিটরি স্নায়ুতে।
অলফেকটরি স্নায়ুতে শুধু তোমারই সৌরভ।
তোমাকে এগিয়ে আসতে দেখে
নার্ভাস টিস্যুর প্রতিটি নিউরনে চলে অপ্রতিভ দোত্যনা।
তুমি বল-‘সুপ্রিয়!
বায়োলজির নোটটা দিও।’
কিন্তু আমি নিশ্চুপ; যেন মুখে এটেছি কুলুপ।
আমার অনেক প্রেম! কিছু কিছু প্রেম আমি করি নিয়šত্রন
ঠিক যেমন কর্ডিয়াক পেশী
স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রন করে রক্তের বন্টন।
তবু কেন তোমার চপল চলনে আর চুলের চাঁপায়
ভুলে যাই মাঝেমাঝে স্মৃতি কিছুকিছু?
কলেজের ছেলেগুলো যারা আমারই বন্ধু
যেন কাঁঠাল চাঁপার গন্ধে মাতাল,
তারা হেটে যায় তোমার পিছুপিছু।
হয়তো তারা কাটে টিপ্পনী কিংবা কেউ নিয়ে যায় দূরে
আমি ওদের সকলকে চিনি, ওরা বড্ড প্রেমকাতুরে
ওরাতো আমারই বন্ধু।
আমি ওদের মত প্রগলভ নই। অভিব্যক্তির ভাষা আমার কই?
তোমার ঐশ্বরিয় রূপের দ্যূতি- ফুল হয়ে ফোটে মধুর হরষে
বন্ধুদের ভালবাসার চিঠিতে, রঙবেরঙের কালির পরশে।
তুমি প্রহেলিকা নাকি?
গাঢ় নাইট্রিক এসিডের মত পুড়িয়ে সকলের হৃদয়কে কর ছাই।
আমার বড্ড আনন্দ! আমি ভালবাসতে জানিনা
তাদের মনের ভষ্ম তাই- মহানন্দে আকাশে উড়াই।
কলেজের ক¤পাউন্ড কাঁপিয়েছ তুমি
সে ক¤পনে আমি তো কাঁপিনি।
তোমার তোলা ঝড়ে হয়নি প্লাবন
তবু কেন ভেঁজে এ নয়ন!
তোমার চুম্বকে কপর্দকশূণ্য সবে।
তাদের হৃদয়ে চাপিয়ে জগদ্দল পাথর
তুমি মাতো প্রনয় উৎসবে!
দোহাই তোমার!
মায়াবী কূহকজাল ছাড়িয়োনা আর।
তোমার আলোকচ্ছটায়
কাব্যহীন বাউন্ডুলে সব কবিতা আওড়ায়।
আমি আত্মভোলা কবি- তাই নির্বিকার চিত্তে
তোমাকে ধারণ করি আমার কবিতায়।
সবাই তোমাকে চায়, আমি শুধু চাইনা তোমায়!
মাঝে মাঝে যখন শূন্যতায় ভুগি,
একাকিত্বের জালে নিজেকে জড়াই,
হৃদয়ে জমানো ছোট ছোট কান্নাগুলো
গিলে ফেলি গোগ্রাসে। তবু অশ্রƒতে হই একাকার।
তোমাকে লুকাতে ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠা আমার।
এই ডেমোক্রেসির জামানায়- সকলের মুখ ছুটেছে আজ।
আমি আজন্ম নির্বাক, কি করে বেরুবে আওয়াজ!
কাপুরুষ ভেবনা আমায়।
সবাই পড়েছে প্রেমে।
আমি প্রেমকে লুকিয়ে রেখেছি হৃদয়ের সিন্দুকে।
আমি তো আর সবার মত নই যে
লাক্সারি সোপিস করে প্রেমকে সাজিয়ে রাখবো
কাঁচের সোকেসে।
আমার প্রেমগুলো বড্ড উদ্বেল!
কিন্তু দাম দিয়ে যায়না কেনা-নট্ ফর সেল!
তোমার নিটোল কায়ায় আমি নিরুৎসুক হায়
প্রেম-ট্রেম টানেনা আমায়।
আমার প্রেমের প্রকাশ শুধু কবিতায়।
শপথ চন্দ্রকান্তার!
কষ্মিনকালেও আমি চাইনা তোমায়!